February 22, 2026, 10:35 pm
শেয়ারবাজারে বড় ধরনের সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি “বিপ্লব” ঘটানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু পুঁজিবাজার নয়, দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গতকাল (২০ফ্রেব্রুয়ারী) চট্টগ্রাম মহানগরের কাট্টলী এলাকা নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “শেয়ারবাজার যে একটু বেড়েছে তা নিশ্চয়ই সুখবর। তবে এই বাড়তি দিয়ে বাজার চাঙা হবে না। শেয়ারবাজারে পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন আনতে হবে।”
তিনি জানান, বাজারের পরিবেশ উন্নত করতে প্রয়োজনীয় আইনকানুন সংশোধন করা হবে, যাতে ভালো ও শক্তিশালী কোম্পানি বাজারে আসে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পান।
তার ভাষায়, “আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সাধারণ মানুষ বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।”
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন সূচক অনুযায়ী অর্থনীতি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। দারিদ্র্য বাড়ছে, বিনিয়োগ কমছে, কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টর মূলধনি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, ঋণ গ্রহণও কমেছে।
তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে অর্থনীতি খুব খারাপ অবস্থায় আছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের প্রোগ্রামে যেসব বিষয় ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে মুক্ত করতে চাই এবং তার সুফল জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে চাই।”
আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রচলিত ধারার বাজেট করতে চায় না।
আমরা এমন বাজেট চাই, যেখানে দেশের জনগণ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। বাজেটের সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “কোনো পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি চলবে না। যারা এতদিন বিশেষ সুবিধা নিয়ে অন্যদের বঞ্চিত করেছে, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর এদিনই প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে আসেন তিনি।
তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বিমানবন্দরে বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী ভিড় করেন। কাট্টলী ও মেহেদীবাগে তার বাসভবনেও নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও গতিশীল করতে বন্দরে সেবাদানকারী বিভিন্ন পক্ষের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বন্দরের কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.