February 22, 2026, 10:35 pm
বিশ্বজুড়ে ব্লকড বা নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ দিতে ‘ফ্রিডম ডটগভ’ নামে নতুন একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রবাহে আরোপিত সরকারি বিধিনিষেধ ভাঙার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ দৈনিক The Independent জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই বিশেষ পোর্টাল ব্যবহারকারীদের এমন সব ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ দেবে, যেগুলো বিভিন্ন দেশে ঘৃণামূলক বক্তব্য বা সন্ত্রাসী প্রচারণার অভিযোগে বন্ধ রয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর—ইউ এস এ উদ্যোগকে ‘মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ রক্ষায় শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। তাদের দাবি, ইন্টারনেটে তথ্যের ওপর আরোপিত সেন্সরশিপ প্রতিরোধই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
পোর্টালটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ব্যবহার করলে মনে হবে ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি ব্রাউজিংয়ের সময় ব্যক্তিগত তথ্য ট্র্যাক বা সংরক্ষণ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। বর্তমানে সাইটটির একটি প্রাথমিক সংস্করণ চালু হয়েছে। সেখানে বড় ব্যানারে লেখা রয়েছে—‘তথ্যই শক্তি। আপনার মতপ্রকাশের যে মানবাধিকার রয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করুন। প্রস্তুত হোন।’
মার্কিন প্রশাসন, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন সরকার, বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের সমালোচনাও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইহুদিবিদ্বেষ ও চরমপন্থী প্রচারণা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ এবং যুক্তরাজ্যের ‘অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট’-এর মতো আইন প্রয়োগ করছে। এসব আইনের আওতায় বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে দ্রুত অবৈধ বা ঘৃণামূলক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করা হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সন্ত্রাসবাদে উসকানির অভিযোগে ৪৮২টি কনটেন্ট সরানোর আদেশ জারি করেছিল জার্মানি । পাশাপাশি প্রায় ১৬ হাজার ৭৭১টি কনটেন্ট মুছে ফেলতে বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারীকে বাধ্য করা হয়।
একই বছর মেটা’র ওভারসাইট বোর্ড পোল্যান্ডের একটি রাজনৈতিক দলের পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। ওই পোস্টে জাতিগত বিদ্বেষমূলক শব্দ ব্যবহার ও অভিবাসীদের ‘ধর্ষক’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনে ‘বেআইনি ঘৃণামূলক বক্তব্য’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিল, যখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তপ্ত। ফলে নতুন এ পোর্টালটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন করে বিতর্ক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।
ইএটি
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.