August 23, 2026, 1:30 am

৫ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৬ হাজার কোটি টাকা

৫ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৬ হাজার কোটি টাকা

চলতি বছর রাজস্ব আদায়ে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৭৩ শতাংশ। টাকার অংকে এই ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।

আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রনালয় থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসের রাজস্ব আদায়ের সাময়িক এ তথ্য জানানো হয়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৭ হাজার ৯২ কোটি টাকা। যেখানে নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ২৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭৩ দশমিক ৬১ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে।রাজস্ব প্রবৃদ্ধি তিন দশমিক ১৯ শতাংশ। যেখানে গত অর্থবছর একই সময় প্রবৃদ্ধি ছিল ছয় দশমিক ১৯ শতাংশ।

আমদানি-রপ্তানি (কাস্টমস খাতে) পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ঘাটতি। নভেম্বর পর্যন্ত এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ২৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ঘাটতি রয়েছে ১০ হাজার ৫৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তবে এ খাতে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে এক হাজার ৬২৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কাস্টমস খাতে প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক ২৪ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারির মধ্যে এক দিনের জন্যও কাস্টমস হাউস বন্ধ ছিল না। করোনার মধ্যে প্রথম অবস্থায় আমদানি-রপ্তানি কম ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিও স্বাভাবিক হয়ে যায়। এরপরও কাস্টমস খাতে সর্বোচ্চ রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ঘাটতি মেটাতে রাজস্ব ফাঁকি রোধ, দ্রæত পণ্য খালাসে জোর দিয়েছে এনবিআর।

অপরদিকে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘাটতি রয়েছে ভ্যাট (মূসক) খাতে। এ খাতে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ৪২ হাজার ৫২৮ কোটি ৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ঘাটতি রয়েছে ৯ হাজার ৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আর গত অর্থবছরের তুলনায় একই সময়ে মাত্র ১১ কোটি ৬১ লাখ বেশি ভ্যাট আদায় হয়েছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে প্রথম অবস্থায় দোকান, রেস্তোরাঁ, শপিংমল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ফলে ভ্যাট আদায়ে প্রভাব পড়ে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান খুলেছে। ভ্যাট আদায়ও বাড়ছে। তবে করোনার ধাক্কা এখনও সামলে উঠেনি। বিক্রি কম হচ্ছে। ফলে ভ্যাট আদায়ও কমেছে।

সবচেয়ে কম রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। নভেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ৩২ হাজার ১৬৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৫ হাজার ৯৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি ছয় হাজার ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা এক অর্থবছরের চেয়ে এক হাজার ৪৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা বেশি। আর এ খাতে আহরণ প্রবৃদ্ধি চার দশমিক ২২ শতাংশ।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। শেষ সময়ে অনেকেই রিটার্ন ও আয়কর জমা দিচ্ছেন। আর কোম্পানি করদাতারা রিটার্ন ও আয়কর জমা দেয়া শুরু করেছে। করোনার কারণে উৎসে কর আদায়ে প্রভাব পড়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এ খাতে ঘাটতি খুব বেশি হবে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে বিপুল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নেয়ায় ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক গতি থাকা সত্তে¡ও রাজস্ব আদায় বেড়েছে গড়ে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ হারে। চলতি বছর করোনার প্রভাবে সার্বিকভাবে ব্যবসা ও শিল্পোৎপাদনে গতি নেই। ফলে স্বভাবতই রাজস্ব আদায়ে আগের বছরের মতো গতি নেই। সেই বিবেচনায় আদায়ে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক। অথচ এবার এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫১ শতাংশ।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কাস্টমস খাতে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি, ভ্যাট খাতে এক লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি ও আয়কর খাতে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো আমরা বাজেট দিয়েছি। এখন ২০২০ সাল ক’দিন পরেই শেষ হবে। সে অনুযায়ী আমরা পর্যালোচনা করছি, পর্যালোচনা অনুযায়ী যেখানে যেখানে অনুরোধ করা দরকার, সেখানে সেখানে অনুরোধ করবো।

তিনি বলেন, দেখেন সারা বিশ্বে কোথাও প্রবৃদ্ধি পাবেন না। আমরা এখনও সব সূচকে প্রবৃদ্ধি রক্ষা করছি। সুতরাং এটা আল্লাহর অশেষ রহমত এ দেশের মানুষের প্রতি।

বিজনেস নিউজ/এমআরএম

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com