August 23, 2026, 10:01 am

উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

স্বল্প আয়তনের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, কৃষিসহ অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়া‌নোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শ‌নিবার জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় উৎপাদনশীলতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট খাতের অবদানের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় অর্থনীতির সব খাতের সামগ্রিক অগ্রগতি ও অবদান। উৎপাদনশীলতার সুফল শুধুমাত্র উৎপাদনকারী এককভাবে ভোগ করে না। এর সুফল সরকার, মালিক, শ্রমিক ও ভোক্তাসহ সমাজের সবাই সমানভাবে ভোগ করে। তাই সুফল ভোগ করতে সমাজের সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও অঙ্গীকার একান্ত প্রয়োজন। আর এ সামগ্রিক অঙ্গীকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হচ্ছে উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে জাতীয় আন্দোলনে রূপান্তরিত করা।

উৎপাদনশীলতার স্তরে কিছুটা পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ করতে হলে দেশের কৃষি, শিল্প কারখানা, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র, হাসপাতাল প্রভৃতি জাতীয় অর্থনীতির সব কর্মকাণ্ডের পদ্ধতিগত ও ধারাবাহিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কর্মসূচিকে আরও জোরদার করতে হবে। সবাইকে উৎপাদনশীলতার সুফল সম্পর্কে সচেতন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আন্দোলনে সবাইকে শামিল করতে হবে।

সভায় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে নীতি কৌশলের ব্যাপক চর্চা একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে সামঞ্জস্যপূর্ণ টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে আধুনিক কলাকৌশল প্রশিক্ষণ, সেমিনার, নতুন নতুন কৌশল ও উদ্ভাবনী কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. গোলাম ইয়াহিয়া, ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অরগানাইজেশনের (এনপিও) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মেজবাহ-উল-আলম, এনপিও পরিচালক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) মো. ফয়জুর রহমান ফারুকী। এছাড়া অনুষ্ঠা‌নে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

গ্রুপ অব কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হলে সহযোগী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ না করা। বন্ড লাইসেন্সে এইচ.এস কোড ও কাঁচামালের বিবরণ অন্তর্ভুক্তির জটিলতা নিরসন করা। সুতা থেকে নিট গার্মেন্টস উৎপাদনে অপচয় হার বৃদ্ধির কারণে জরিমানা আরোপ না করা।

বিমানবন্দরে রফতানিপণ্য দ্রুত স্ক্যানিংয়ের জন্য স্থাপিত ইডিএস মেশিনগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং পণ্য নামানোর পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেনোপির ভিতরে পণ্য নিয়ে আসা, যাতে করে পণ্যগুলো বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট না হয়।

বেনাপোল বন্দরসহ অন্যান্য স্থলবন্দর, বিশেষ করে ভোমরা ও সোনা মসজিদের মাধ্যমে বন্ড সুবিধার আওতায় তুলা, সুতা, কাপড় এবং বস্ত্র ও পোশাকখাতের অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি ও আংশিক শিপমেন্টের অনুমোদন দেওয়া।

এ বিষয়গুলোসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরে আমরা একাধিক বৈঠক করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, করোনার ফলে শিল্পের ক্ষতি কাটিয়ে প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে ও কর্মসংস্থানসহ অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান অব্যাহত রাখতে সরকারের নীতি সহায়তা ও সমর্থন প্রদান অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com