February 20, 2026, 10:14 pm
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে ভ্যাট সংক্রান্ত গরমিল ও অসংগতি পেয়েছেন নিরীক্ষক। একই সঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগও উঠেছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর কাছে পাঠানো নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব অসংগতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিরীক্ষক জানান, কোম্পানির আর্থিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে—২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের কাছে ভ্যাট বাবদ পাওনা রয়েছে ৫২ কোটি ৮৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তবে ভ্যাট রিটার্ন (মূসক ৯.১)-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেলে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার গরমিল পাওয়া গেছে।
আর্থিক বিবরণীতে পণ্য বিক্রি বা টার্নওভার দেখানো হয়েছে ২৯ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অথচ ভ্যাট রিটার্ন অনুযায়ী বিক্রির পরিমাণ ২৭ হাজার ৫০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। দুই হিসাবে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ১ লাখ টাকা—যা উল্লেখযোগ্য অমিল বলে মন্তব্য করেছেন নিরীক্ষক।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানির হিসাবে শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬২ হাজার টাকা রয়েছে। কিন্তু ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, শেয়ার মানি ডিপোজিট গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে তা শেয়ার ক্যাপিটালে রূপান্তর করতে হয়। মেঘনা পেট্রোলিয়াম তা করেনি, যা এফআরসির নির্দেশনার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পরিশোধিত মূলধন বর্তমানে ১০৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৪১ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে।
ইএটি
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.