July 17, 2026, 2:08 am
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেহ হাউজ তামহা সিকিউরিটিজের আত্মসাৎকৃত অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি।
চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, তামহা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা সবাই মিলে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের কথা জানিয়েছে। আগামী ৩১ মের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের জন্য ডিএসইতে টাকা জমা দিতে হবে। এই টাকা থেকে গ্রাহকদের পাওনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডিএসই তা নিষ্পত্তি করবে। বিনিয়োগকারীদের টাকা পরিশোধের বিষয়টি প্রতি সপ্তাহে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
এদিকে, ইতোমধ্যে তামহা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হারুনুর রশিদ ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিএসইসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ গত ৫ জানুয়ারি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তামহা সিকিউরিটিজ ও প্রতিষ্ঠানটির এমডির স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এর আগে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠায় গত ডিসেম্বরের ৯ তারিখে ডিএসই তামহা সিকিউরিটিজের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে।
এদিকে, তামহা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর বিএসইসি ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত তদন্ত কমিটি এ অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়। কমিটির সদস্যরা আরও জানতে পারে, ব্রোকারেজ হাউসটি তার প্রায় দুই হাজার গ্রাহকদের শেয়ার ও জমাকৃত অর্থের হিসাব রাখতে দুটি পৃথক ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে। তারা একটি দিয়ে প্রকৃত তথ্য এবং অন্যটি দিয়ে ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করত। দুটি পৃথক ব্যাক অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করায় বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত তথ্য জানতে পারেনি। এভাবে প্রায় দুই হাজার গ্রাহক তামহা সিকিউরিটিজের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তামহা সিকিউরিটিজের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।