July 21, 2026, 5:11 pm

বৈদেশিক ঋণে নানা শর্ত, আরএডিপিতে কমছে বরাদ্দ

বৈদেশিক ঋণে নানা শর্ত, আরএডিপিতে কমছে বরাদ্দ

বছরের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও কাঙ্খিত গতি আসছে না বার্ষিক উন্নয়ণ কর্মসূচী (এডিপি) বা উন্নয়ণ বাজেটে। এতে বড় কাঁটছাটে পড়ছে এডিপি। তবে এর পুরোটাই যাচ্ছে প্রকল্প সহায়তা বা ঋণের উপর দিয়ে, অপরিবর্তীত থাকছে দেশি অর্থায়ন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিছেয়ে, অর্থবছরের শুরুতে সরকারি ও সহায়াতা মিলে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার এডিপি নেয়া হয়েছিল। তাতে বৈদেশিক অংশ ছিল ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) তা কমে দাঁড়াতে পারে ৭০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা কমতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ উৎস বা সরকারি খাত থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার কোন হেরফের হচ্ছে না।

বৈদেশিক বরাদ্দ কমানোর হার গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। গত বছর সাড়ে ৭ হাজার কোটি ঋণসহায়তা কমেছিল আরএডিপিতে।

তবে এডিপি সংশোধন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও মাসখানেক অপেক্ষা করতে হবে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে আরএডিপি।

পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. ছায়েদুজ্জামান বলেন, ‘বিদেশি সহায়তার অংশ খরচ করতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে নানা শর্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাদের পরামর্শক মেনেই চলতে হয়। এজন্য উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি অংশের চেয়ে সরকারি অংশের বেশি খরচ হয়। তাই এবারের অরএডিপিতে বৈদেশিক ঋণ কমলেও সরকারি অংশের অর্থায়ন কমার সম্ভাবনা নেই ।’

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য বলছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত এডিপির চার ভাগের এক ভাগও বাস্তবায়ন হয়নি। ছয় মাসে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২৪ শতাংশ। সংস্থার অর্থায়নসহ এবারের এডিপির মোট আকার দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকার এডিপির মধ্যে সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ৫৬ হাজার ৯৬২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ধীরগতির এই এডিপি বাস্তবায়নের কারণেই বড় কাটছাতের তোড়জোর শুরু হয়েছে।

কমিশন বলছে, এডিপির সরকারি অংশের অর্থ ব্যবহার তুলনামূলক সহজ হওয়ায় সরকারি তহবিল থেকে বেশি বরাদ্দা চাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। অনেকেই তাদের সরকারি অশের বরাদ্দের সিংহভাগ খরচে করে ফেলেছে। বিদেশি অংশে তেমন একটা হাত পড়েনি। আবার গত কয়েক মাসে পাস হওয়া নতুন প্রকল্পেও বরাদ্দের চাপ রয়েছে। ফলে সরকারি অংশের টাকা খুব একটা কমানের সুযোগও নেই।

ধীর গতির অর্থব্যয়ে মধ্যে সরকারি অংশের চেয়ে ব্যয়ে ঢের পেছিয়ে উন্নয়ন সহায়তার অংশের ব্যয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রণালয়গুলো যেখানে সরকারি সহায়তার অংশে ৩৪ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা খরচ করেছে, সেখানে বৈদেশিক সহায়তার অংশে খরচ হয়েছে ১৯ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

কমিশন বলছে, আরএডিপিতে বড় কাটছাঁটের অন্যতম কারণ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে খরচ করতে না পারার অশংকায় অর্থ ফেরত দিতে চায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

চলতি অর্থবছরের এডিপিতে ১ হাজার ৫৯১টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৩৭২টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১২০টি, উন্নয়ন সহায়তায় থোক বরাদ্দ থেকে ৯টি এবং নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প রয়েছে ৯০টি। তবে গত কয়েক মাসে প্রায় অর্থশতাধিক নতুন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে যা যোগ হবে আরএডিপিতে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com