August 13, 2026, 10:16 pm
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে সাত বছর বয়সী একটি শিশুকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণের জন্য শিশুটিকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছিল বলে পিবিআই জানিয়েছে। রাজবাড়ী থেকে ওই তিন কিশোরকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার তাদের সামনে আনা হয়।
আল আমিন নামে শিশুটিকে গত ২৮ অগাস্ট সকালে সিংগাইরের বড়বাকা এলাকায় তার বাড়ি থেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।
পিবিআই মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত সুপার কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাসার সামনে সাইকেল চালানোর সময় ওই তিন কিশোর শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে। তারা শিশুটিকে একটি বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে গলা টিকে হত্যা করে। তারপর প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডোবায় ডুবিয়ে রাখে লাশ।
ওই তিন কিশোর তার আগে আল আমিনের জামা-প্যান্ট খুলে রেখে দেয় মুক্তিপণ চাওয়ার সময় দেখানোর জন্য। হত্যার একদিন পর ৩০ অগাস্ট আবার ডোবা থেকে লাশ তুলে ঘটনাস্থলের পাশে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে।
এদিকে ছেলেকে না পেয়ে পরদিন আল আমিনের বাবা শহিদুল ইসলাম একটি সাধারণ ডায়েরি করেন থানায়।
এর মধ্যে খোঁজাখুজির সময় ৩১ অগাস্ট আল আমিনের জামা কাপড় তারা পান, পরে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে মাটির নিচে লাশও পান তারা।
জাহাঙ্গীর জানান, বিষয়টি থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ছায়া তদন্তে নেমে শুক্রবার তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে।
তিনি বলেন, তারা ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে আদায়ের জন্য এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছিল। কিন্তু হত্যার পর নতুন সিম সংগ্রহ করতে না পারায় আল আমিনের বাবার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।
আল আমিনের বাবা দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরে ব্যবসা করছেন। তার কাছে বেশ টাকা আছে ধারণা থেকে ওই তিন কিশোর এই পরিকল্পনা করে।
পিবিআই কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর জানান, লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলার পর তিনজনই সাভারে পালিয়ে একটি হোটেলে উঠেছিল। সেখানে হোটেলের এক কর্মচারীর ফোন থেকে আল আমিনের বাবার কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। এরপর রাজবাড়ী পালিয়ে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েছিল ওই তিন কিশোর। আর তা করতে গিয়েই পিবিআইয়ের জালে তারা ধরা পড়ে।