July 21, 2026, 5:20 pm
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, আর্থিক হিসাব, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ারধারন, ফ্রি ফ্লোট শেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রকাশ করতে পারবে।
বৃহস্পতিবার ‘ডিজিটাল সাবমিশন অ্যান্ড ডেসিমিনেশন প্লাটফর্ম অব ডিএসই’ নামে এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছে ডিএসই। ভার্চুয়ালে আয়োজিত এ সংক্রান্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।
ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সফটওয়্যারটিতে ৫০ টেমপ্লেট বা ক্যাটাগরি রয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারধারনের তথ্য, পিএসআই, প্রান্তিক আর্থিক হিসেব, বাৎসরিক আর্থিক হিসেব, করপোরেট গভর্নেন্স রিপোর্ট, ফ্রি ফ্লোট রিপোর্ট, ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট, ইয়ার ইন্ডিং, কোম্পানির ওয়েবসাইট, ট্রেডিং তারিখ, ট্রেডিং কোড, লিস্টিং ডেট, ডিভিডেন্ড ইত্যাদি বিষয়ে আলাদা আলাদাভাবে তথ্য প্রকাশ করা যাবে।
বর্তমানে ডিএসইর ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের প্রতি মাসের শেষদিনের শেয়ার ধারনের তথ্য প্রকাশ করা হয়। যা প্রকাশ করতে ডিএসই কয়েকদিন সময় নিয়ে থাকে। তবে সফটওয়্যারটির মাধ্যমে রিয়েল টাইম শেয়ারধারন দেখা যাবে। এছাড়া প্লেসমেন্টহোল্ডারদের শেয়ারধারন, গিফটের শেয়ার ইত্যাদি বিষয়ে সফটওয়্যারে তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএসই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, সফটওয়্যার উদ্বোধন করলেই হবে না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করতে হবে। একইসঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া কেউ যেন মিথ্যাচার বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির লোকজনকে অনেকবার স্বশরীরে আসতে হয় এ কারণে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে চাই না এমন অভিমত দিয়ে বিএসইসির এই কমিশনার বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে চায় না, তার একটি কারণ বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির লোকজনকে অনেকবার স্বশরীরে যাওয়া লাগে। তবে আজকের সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেই সমস্যা কেটে যাবে বলে আশা করছি।
অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন পাটোয়ারি, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) জিয়াউল করিম, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (সিআরও) মো. আব্দুল লতিফ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
ডিএসইর সিটিও জিয়াউল করিম বলেন, এই সফটওয়্যার এমনভাবে করা হয়েছে যে কোনো সময় পরিবর্তন করা যাবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে পারবে। কেউ ভুল তথ্য দিতে পারবে না, সফটওয়্যার সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে।
সফটওয়্যারটি তৈরি পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে ডিএসইর সিটিও বলেন, সফটওয়্যার তৈরির নেতৃত্ব দিয়েছেন সায়িদ মাহমুদ জুবায়ের। একটি ভুল তথ্যের কারণে আমি তাকে বরখাস্ত করি। ওই ভুলের পরে আজকের সফটওয়্যারটি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। আসলে কিছু ভুল থেকে অনেক সময় ভালো কিছুও হয়। যা আজকের সফটওয়্যার উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রমাণিত। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ভুলের জন্য শাস্তি পাওয়া সায়িদ মাহমুদ জুবায়ের।