April 19, 2026, 2:44 pm

মতিঝিলে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ-গুলি, আহত অর্ধশত

মতিঝিলে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ-গুলি, আহত অর্ধশত

রাজধানীর মতিঝিলে যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এ সময় অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরও রয়েছেন। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের একটি মিছিল রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকায় শুরু হয়। এতে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি মতিঝিলে যাওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

যুব অধিকার পরিষদ আয়োজিত এই বিক্ষোভে পুলিশ পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা মশিউর রহমানের। তিনি জানান, পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে।  এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

তিনি আরও বলেন, আমরা মতিঝিল শাপলাচত্বর পার হচ্ছিলাম, এ সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এখান থেকে শিশুবক্তা রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান জানান, পুলিশ বিক্ষোভে গুলি ছোড়েছে। এতে ছাত্র ও যুব অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।  আহতদের মধ্যে রয়েছেন-নুরুল হক নুর, সাজিদ, মৃণাল, মুরাদ প্রমুখ। এদের মধ্যে সাজিদসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন নুরুল হক নুর। এই তথ্য জানিয়েছেন নুরের ভাগ্নে মিঠু। তিনি যুগান্তরকে টেলিফোনে বলেন, মামা পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের মিছিলটি শাপলাচত্বরে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। পুলিশও টিয়ারশেল ছোড়ে।  এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।  সংঘর্ষে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
ঘটনাস্থল থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।  আলোচিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকেও এ সময় আটক করা হয়।

বর্তমানে শাপলাচত্বর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তবে রফিকুল ইসলামকে আটকের বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  মতিঝিল থানায় ফোন করা হলে ডিউটি অফিসার আরাফাত জানান, তার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

মতিঝিল জোনের এডিসি নুরুল আমিন বলেন, তারা মিছিল নিয়ে শাপলা চত্বর এলে আমাদের পুলিশ সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।  তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ শুরু করে। আমাদের বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com