July 17, 2026, 1:58 am
চলতি অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, অনেকেই সেই সুযোগটি নিয়েছেন। গত ১ জুলাই অর্থবছর শুরু হওয়ার পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ হাজার ৬৫০ জন অপ্রদর্শিত আয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বা কালো টাকা সাদা করেছেন। ফলে প্রায় ১০ হাজার ২২০ কোটি কালো টাকা সাদা হয়েছে।
আজ সোমবার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এনবিআরে জমা দেওয়া রিটার্ন থেকে জানা যায়, নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, ফ্ল্যাট ও জমি কিনে কালো টাকা সাদা করেছেন ৭ হাজার ৪৪৫ জন। সরকার এই খাত থেকে কর পেয়েছে ৯৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করেছেন ২০৫ জন। তাদের কাছ থেকে সরকার কর পেয়েছে ২২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এই কালো টাকা সাদা করার ফলে দেশের অর্থনীতিতে ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা যুক্ত হয়েছে। যা দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর জিডিপির হার বৃদ্ধিতে বড় ভুমিকা রাখবে।
গত ১ জুলাই অর্থবছর শুরু হওয়ার পর প্রথম ৫ মাসে তেমন সাড়া না পড়লেও ডিসেম্বরে কালোটাকা সাদা করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন কালোটাকার মালিকরা। গত ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত যেখানে মাত্র সাড়ে তিন হাজার ব্যাক্তি কালো টাকা সাদা করেছিলেন। সেখানে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ হাজার ৬৫০ জন অপ্রদর্শিত আয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বা কালো টাকা সাদা করেছেন। ফলে ৬ মাসে প্রায় ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা সাদা হয়েছে। তার মধ্যে শুধু ডিসেম্বরেই সাদা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
জানা যায়, কালো টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ৭৬৫০ জন ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার কাছ থেকে সরকার মোট ৯৬২ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। তবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দেওয়ার হার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে এ অর্থবছরে। ১ জুলাই থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন ২১ লাখ ৫১ হাজার ৩২৬ করদাতা। ২০১৯ সালের একই সময়ে এটি ছিল ১৯ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৭ জন।Bআগের বছরের চেয়ে এই সময়ের মধ্যে করদাতা বেড়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৯ জন।
প্রসঙ্গত, এবারের বাজেট বলা হয়েছে দেশের প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেনও, ব্যক্তি শ্রেণির কর দাতাদের চলতি অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা যেকোনও সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করলে কর্তৃপক্ষসহ কেই প্রশ্ন করতে পারবে না। একই সময় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করলে, ওই বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর দিলে, আয়করসহ কোনও কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন করবে না। এর বাইরে বিনিয়োগ চাঙা করতে বিদায়ী অর্থবছর থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে আসছে সরকার। সেখানে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকৃত অর্থের ১০ শতাংশ কর দিলেই প্রশ্ন করবে না এনবিআর। ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই সুযোগ আছে। অবশ্য এখন পর্যন্ত কেউ হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে কালো টাকা বিনিয়োগ করেননি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, এই পর্যন্ত দেশে ১৭ বার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি টাকা সাদা হয়েছে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। ওই সময় ৩২ হাজার ৫৫৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ নিয়েছিল। তখন ৯ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা বৈধ করা হয়। তবে দেশে ঘোষণা দিয়ে প্রথম কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ১৯৭৫ সালে, সামরিক আইনের আওতায়।
বিজনেস নিউজ/এসআর