April 21, 2026, 4:37 am
পুঁজিবাজারের ৩২ কোম্পানির ৬২ পরিচালক মৃত। মারা যাওয়ার পরেও তারা পরিচালক রয়েছেন। মারা গেলেও ওয়েবসাইটে তাদের রিপ্লেসমেন্ট নাই। এগুলো হালনাগাদ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) আয়োজিত “টেকনোলজি টু প্রটেক্ট অ্যান্ড এসিস্ট ইনভেস্টর ইন দ্যা ক্যাপিটাল মার্কেট” শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির ওয়েবসাইট থাকা বাধ্যতামূলক। একই সাথে সেই ওয়েবসাইটে কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন থাকতে হবে। কিন্তু ১৫ শতাংশ কোম্পানির ওয়েবসাইটই নাই বা ফাংশনাল ওয়েবসাইট নাই। এটা প্রযুক্তির পরিপন্থী
তিনি বলেন, কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে তিন বছর পর্যন্ত থাকতে হবে। কিন্তু ৭ শতাংশ কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনই নাই। সাধারণ বিনিয়োগকারীকে কোম্পানি সম্পর্কে স্বচ্ছ একটি ধারণা দিতে ওয়েবসাটে সকল তথ্য রাখতে হবে। প্রযুক্তির এই বিষয়গুলো সমাধান করাও জরুরি বলে মত দেন তিনি।
বিএসইসির এই কমিশনার বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীকে কোম্পানি সম্পর্কে স্বচ্ছ একটি ধারণা দিতে ওয়েবসাটে সকল তথ্য রাখতে হবে। প্রযুক্তির এই বিষয়গুলো সমাধান করাও জরুরি বলে মত দেন তিনি।
তিনি বলেন, বাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে যতেষ্ঠ তথ্য উপাত্ত নেই। আবার আদার মানে কি সেটাও অনেক বিনিয়োগকারী জানেন না। তাই সঠিকভাবে তথ্য ছড়িয়ে দিতে হবে। বিনিয়োগকারীদের কাছে সঠিক তথ্য যতো বেশি থাকবে তারা ততো বেশি ঝুঁকিমুক্ত থাকবে। এ জন্য তথ্যে অবাধ প্রবাহ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে বাজারে নানা কথা শোনা যায়। এ জন্য আমরা পিএসআইয়ের সঙ্গা পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। অডিট রিপোর্ট নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসবিআরএল নামের একটি সেবা রয়েছে। যা আমরা দেশের বাজারে প্রয়োগের চিন্তা করেছি।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বিনিয়োগ যেনে ফিরে আসে সে রকম বাজার তৈরির জন্য বিএসইসি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে ইতিমধ্যে অনেক কিছু প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ আসার পর আমরা বোর্ড মিটিং অনলাইনে করার অনুমতি দিয়েছি। বিডিং হচ্ছে অনলাইনে। কোভিড পরবর্তী সময়েও এগুলো অনলাইনে রাখার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারকে আমরা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে দিতে চাই। একই সাথে দেশের গ্রামগঞ্জে আমাদের পুঁজিবাজার নিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, সব বাজারই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পুঁজিবাজার একটু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে। যতোটা সম্ভব ঝুঁকি কমিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দ্যা ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন আকন্দ ও ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেন।
ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন বিএমবিএর সদস্য মীর মাহফুজ উর রহমান। অনুষ্ঠানটি মডারেট করেন বিএমবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াদ মতিন।